মার্কিন অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে সেনাবাহিনীর এক ঘাঁটিতে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে তেরোজনকে হত্যা করার দায়ে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা সামরিক হেফাজতে হাসপাতালে আছেন|
ওই সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট হুডের সেনাধ্যক্ষ বলছেন সেনাবাহিনীর এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মেজর নিদাল মালিক হাসান একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে অন্যান্য সৈনিকদের ওপর গুলি চালতে শুরু করেন এবং পরে অবশ্য তিনি নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন|
ফোর্ট হুড বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম|
সাড়ে আটশো বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এই ঘাঁটীতে প্রায় ৪৫ হাজার সৈন্য ও সামরিক কর্মকর্তার বসবাস যদিও এদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েণ রয়েছেন|
ইরাক ও আফগানিস্তানে যে মার্কিন বাহিনী রয়েছে তার একটা বড় অংশই ফোর্ট হুড থেকে পাঠানো হয়েছে|
আর এর একটা বড় প্রভাব ফোর্ট হুড ও তার আশপাশের জায়গাগুলোতে পরিলক্ষিত হয়ে থাকে|
ফোর্ট হুডের শত শত মার্কিন সৈন্য সংঘাতের বিভিন্ন জায়গায় প্রাণ দিয়েছেন, যাদের প্রতিবছর স্মরণ করা হয়ে থাকে স্থানীয় স্কুল বা অন্য এমন সব জায়গায় যেখানে স্বজন হারানো লোকজন নিয়মিত গিয়ে থাকেন|
ফোর্ট হুডে যে হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে তার কারণ নিয়ে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু আপাতভাবে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তার ভিত্তিতে এর পেছনে মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মেজরের হাত রয়েছে বলে বলা হচ্ছে|
মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল বব কোন বলছেন, প্রাথমিকভাবে এর পেছনে একজনই রয়েছেন যিনি একাধিকবার গুলি ছুঁড়েছেন|
যদিও আগে বলা হয়েছিল ঐ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, কিন্তু জেনারেল বব কোনের কথায়, তিনি এখন নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল|
টেক্সাসে বিবিসি-র সংবাদদাতা রাজেশ মিরচন্দানি বলছেন, ৩৯-বছর বয়সী মেজর নাদিল মালিক হাসান একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে ফেরৎ যাওয়া মার্কিন সৈন্যদের চিকিৎসা করেন|
গত ছয় বছর ধরে তিনি অন্য একটি সামরিক কেন্দ্রে এই কাজ করেছেন এবং মাত্র ছয় মাস আগেই তাকে ফোর্ট হুডে বদলি করা হয়েছে|
বিবিসি-র এই সংবাদদাতা বলছেন, যারা মেজর হাসানকে ঘণিষ্টভাবে জানেন তারা হলফ করে বলছেন তিনি মোটেই কট্টরপন্থী নন|
মি: কনস্টানাপোওলুস মেজর হাসানের একজন সাবেক প্রতিবেশী ম্যারিল্যান্ডের একজন বাসিন্দার কথায়, যখনই দেখা হত তখনই তিনি তাঁর সাথে হেসে কথা বলতেন – অনেক বই দিতেন পড়তে বিশেষ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত বইপত্র |
তিনি বলছেন, মেজর হাসানকে তার বেশ ভালো লোক বলেই মনে হত বলছেন তার সাবেক প্রতিবেশী|
মার্কিন টেলিভিশনে মেজর হাসানের যে সাবেক সহকর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তারা অবশ্য বলেছেন, মেজর হাসানের পরিচয়ের মধ্যে জাতি-বর্ণের যে ছাপ রয়েছে তা নিয়ে যেসব মন্তব্য করা হত সেব্যাপারে তিনি অখুশি ছিলেন|
এছাড়া তাকে ইরাকে পাঠোনো হোক এটা তিনি একেবারেই চাননি বলেও তারা মন্তব্য করেছেন |
বস্তুত, ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ভুমিকা নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি|
ঘটনার পেছনে কারণ যাই হোক না কোনো, ফোর্ট হুডের এই ঘটনা যে ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন ভূমিকাকে আরেকটা বিতর্কের আবর্তে নিয়ে গেল তা নিয়ে বোধহয় সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই|